
tughlaq dynasty
তুগলক সাম্রাজ্য tughlaq dynasty বাংলায় “তুগলকি কাণ্ড” নামে যে বাগধারাটি রয়েছে তার উৎপত্তি মূলত মুহাম্মদ বিন তুগলকের আজব কাণ্ড কারখানা থেকেই। তিনি অধিকাংশ সময়ই লঘু পাপে গুরু দন্ড দিতেন এবং এর থেকে ধনী, গরীব, মুক্ত কিংবা কৃতদাস কেউই রেহাই পেতেন না। এছাড়াও তার আচরণ ছিল রহস্যময়। কথিত আছে একবার কিছু প্রজা তার নামে বিদ্রুপপূর্ণ আজেবাজে কথা লিখে খামে ভরে শহরে প্রচার করেছিল এবং তার দরবার হলের দিকে ছুড়ে মেরেছিল। এতে করে তিনি ক্ষিপ্ত হন এবং সিদ্ধান্ত নেন দিল্লি থেকে সব প্রজাদের বের করে দিবেন।
শহরে ঢোল পিটিয়ে ঘোষণা দেওয়া হল আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রজাদেরকে শহর খালি করে দিতে হবে। এর ফলে বেশিরভাগ মানুষ ভয়ে শহর ছেড়ে চলে গেলেও অনেকে আত্নগোপন করে থাকল। সময়সীমা পার হলে তিনি শহর তল্লাশি করার হুকুম দেন এবং যাদের পাওয়া যায় তাদের হয় হত্যা করা হয়, নাহয় টেনে হিঁচড়ে পার্শবর্তী শহর দৌলতাবাদে রেখে আসা হয়। পুরো শহর ফাঁকা হয়ে যাওয়ার পর একদিন তিনি তার প্রাসাদের ছাদে উঠে যখন দেখলেন যে শহরের কোথাও আগুন জ্বলছে না তখন তিনি বলে ওঠেন “এখন আমার মন শান্ত হয়েছে, রাগ কমেছে।”
তবে নির্ভরযোগ্য বর্ণনা থেকে জানা যায়, রাজধানী স্থানান্তর এর যে ঘটনার জন্যে মূহম্মদ বিন তুঘলক এর দিকে অঙ্গুলিনির্দেশ করা হয় সেটা হলো, তিনি লাগাতার মোঙ্গল অভিযানের ফলে মোঙ্গল আক্রমণের হাত থেকে দেশের রাজধানী কে রক্ষা করার জন্য রাজধানী স্থানান্তর করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন এবং তার নাম দৌলতাবাদ রাখেন। মানুষের কষ্ট উপলব্ধি করে তিনি রাজধানী আবার দিল্লিতে স্থানান্তর করেন। তবে ঐতিহাসিকরা ঐকমত্য পোষণ করেন যে, আলাউদ্দিন খিলজি দক্ষ হাতে ও সফলভাবে মোঙ্গল আক্রমণ প্রতিহত করতে না পারলে ভারতের ইতিহাস স্থায়ীভাবে অন্যরকম লেখা হতো।
তুগলক সাম্রাজ্য tughlaq dynasty ১৩২০ সালে গিয়াসউদ্দিন কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একটি তুর্কি মুসলিম রাজবংশ যারা ১৩২০ থেকে ১৪১৩ পর্যন্ত দিল্লী সালতানাতের শাসক ছিল।এই সালতানাতের রাজধানী ছিল দিল্লি। এই সাম্রাজ্য মধ্যযুগে ভারতবর্ষের বিস্তীর্ণ অঞ্চল শাসন করেছে। রাজবংশটি মুহাম্মদ বিন তুঘলকের নেতৃত্বে একটি সামরিক অভিযানের মাধ্যমে তার আঞ্চলিক প্রসার ঘটায় এবং ১৩৩০ থেকে ১৩৩৫ সালের মধ্যে তার শীর্ষে পৌঁছায়।এটি ভারতীয় উপমহাদেশের বেশিরভাগ অংশ শাসন করেছিল।
“তুঘলক” শব্দটির ব্যুৎপত্তি নিশ্চিত নয়। ষোড়শ শতাব্দীর লেখক ফিরিস্তা দাবি করেছেন যে এটি তুর্কি শব্দ “কুতলুঘ” এর দুর্নীতি, কিন্তু এটি সন্দেহজনক। সাহিত্য, সাংখ্যিক এবং এপিগ্রাফিক প্রমাণ স্পষ্ট করে যে তুঘলুক রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা গিয়াসউদ্দিন-এর ব্যক্তিগত নাম ছিল, পৈতৃক পদবী নয়।ইতিহাসবিদরা পুরো রাজবংশকে সুবিধাজনক বিষয় হিসেবে বর্ণনা করার জন্য “তুঘলক” পদবী ব্যবহার করেন, কিন্তু রাজবংশের রাজারা “তুঘলক” কে পদবি হিসেবে ব্যবহার করতেন না: কেবল গিয়াসউদ্দিন এর পুত্র মুহাম্মদ বিন তুঘলুক নিজেকে তুঘলক শাহের পুত্র বলে অভিহিত করেছিলেন। রাজবংশের বংশপরিচয় আধুনিক ইতিহাসবিদদের মধ্যে বিতর্ক হয় কারণ পূর্ববর্তী সূত্রগুলি এটি সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য সরবরাহ করে।
tughlaq dynasty তুঘলকের রাজদরবার কবি বদর-ই চাচ বাহরাম গুরের রেখা থেকে রাজবংশের জন্য একটি রাজকীয় সাসানীয় বংশতালিকা খোঁজার চেষ্টা করেছিলেন, যা সুলতানের বংশানুক্রমিক সরকারী অবস্থান বলে মনে হয়,যদিও এটি চাটুকারিতা হিসাবে খারিজ করা যেতে পারে।মরোক্কোর ভ্রমণকারী ইবনে বতুতা বলেছেন যে তুঘলক “তুর্কিদের কারাউনা উপজাতির” অন্তর্ভুক্ত, যারা তুর্কিস্তান এবং সিন্ধের মধ্যবর্তী পার্বত্য অঞ্চলে বাস করত, একজন সুফি সাধু রুকন-ই-আলমের দাবির উপর ভিত্তি করে।যাইহোক, এটি অন্যান্য সমসাময়িক উৎস দ্বারা সমর্থন করা হয় না। কারাউনারা মঙ্গোল ছিলেন বা মঙ্গোল সৈন্যদলের সাথে যুক্ত ছিলেন, যাদের তুঘলক তুচ্ছ করেছিলেন,এবং তুঘলক কারাউনা ছিলেন এমন সম্ভাবনা কম। তুগলক সাম্রাজ্যের সূচনা হয়েছিল গিয়াসউদ্দিন তুগলকের মাধ্যমে। তার মৃত্যুর পর তার ছেলে মুহাম্মদ বিন তুগলক ক্ষমতায় আসীন হন।
তিনিই তুগলক সাম্রাজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটিয়েছিলেন। তারপরও মুহাম্মদ বিন তুগলক তার দূর্বল রাজ্যনীতি, অসহিষ্ণুতা এবং রহস্যময় আচরনের কারণে কুখ্যাত ছিলেন। তাই বাংলা এবং উর্দূতে তুগলকি কাণ্ড বলতে আজব এবং অবান্তর কাণ্ড-কারখানাকে বুঝায়। মুহাম্মদ বিন তুগলকের মৃত্যুর পর এক মাসেরও কম সময়ের জন্য ক্ষমতায় এসেছিলেন তার দুঃসম্পর্কের আত্মীয় মুহাম্মদ ইবন তুগলক।কিন্তু ফিরোজ শাহ তুগলক মুহাম্মদ ইবন তুগলককে হত্যা করে ক্ষমতা দখল করে নেন। ফিরোজ শাহ তুগলক সৈন্যবাহিনীর দিকে খুব একটা মনোযোগ না দেওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের একটা বিশাল অংশ তার হাতছাড়া হয়ে যায়। ফিরোজ শাহ তুগলকের মৃত্যুর দশ বছরের মধ্যেই তুগলক সাম্রাজ্যের পতন শুরু হয়।