শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
Aaj bangla

ইরানের একাধিক শহরে বড় ধরনের হামলা শুরু

Iran

ইসরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে Iran ইরানের একাধিক শহরে বড় ধরনের হামলা শুরু করেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এটিকে একটি ‘প্রি-এম্পটিভ স্ট্রাইক’ বা আগাম হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যার লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলের ওপর থেকে বড় ধরনের হুমকি দূর করা ।  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘মেজর কমব্যাট অপারেশনস’ শুরু করেছে।  ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা এবং সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা।  রাজধানী তেহরানসহ ইসফাহান, কোম, কারাজ এবং কেরমানশাহ শহরের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে ।

তেহরানে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দপ্তরের কাছেও হামলার খবর পাওয়া গেছে, তবে তিনি নিরাপদ স্থানে আছেন বলে জানা গেছে ।  ইরানও ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করেছে। কাতার ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর কাছে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বর্তমান পরিস্থিতি ইসরায়েল ও ইরান উভয় দেশই তাদের আকাশসীমা বেসামরিক ফ্লাইটের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে । ইসরায়েলজুড়ে সাইরেন বাজছে এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলো এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাশিয়া ও চীন।  রাশিয়া এই হামলাকে ‘বিপজ্জনক উস্কানি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে। চীন সকল পক্ষকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়ে বলেছে যে, এই সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা নষ্ট করবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU): ইইউ দেশগুলো সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং সরাসরি সংঘাত বন্ধ করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার তাগিদ দিয়েছে। আরব দেশসমূহ সৌদি আরব, কাতার এবং জর্ডান এই অঞ্চলে যুদ্ধের বিস্তার নিয়ে সতর্ক করেছে। তারা তাদের আকাশসীমা কোনো ধরনের সামরিক অভিযানের জন্য ব্যবহার করতে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।   জাতিসংঘের মহাসচিব জরুরি ভিত্তিতে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক ডাকার আহ্বান জানিয়েছেন যাতে একটি বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধ এড়ানো যায়।

সংঘাতের খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে: মূল্য বৃদ্ধি: ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের (Brent Crude) দাম মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ১০% থেকে ১৫% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক বিশ্লেষক আশঙ্কা করছেন যে, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ থেকে ১২০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। হরমুজ প্রণালী সংকট: বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০% পারস্য উপসাগরের ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে যায়। ইরান যদি পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে এই পথটি বন্ধ করে দেয়, তবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের চরম বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়া: হামলার কারণে ইরানের তেল শোধনাগার এবং অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা সরাসরি বিশ্ববাজারে সরবরাহ কমিয়ে দিচ্ছে। এশীয় এবং ইউরোপীয় শেয়ার বাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে। বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি এড়াতে তাদের অর্থ সরিয়ে নিচ্ছেন। স্বর্ণের দাম: নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।