প্রয়াত প্রদেশ কংগ্রেস সভাপনতি সোমেন মিত্র, শোকস্তব্ধ রাজনৈতিক মহল

প্রয়াত প্রদেশ কংগ্রেস সভাপনতি সোমেন মিত্র, শোকস্তব্ধ রাজনৈতিক মহল
আজবাংলা     প্রয়াত কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা তথা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপনতি সোমেন মিত্র৷বয়স হয়েছিল ৭৮। দক্ষিণ কলকাতায় একটি বেসরকারি নার্সিং হোমে বুধবার গভীর রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। পুরনো পেসমেকার বদল করার জন্য নার্সিং হোমে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বেশি হওয়ায় সমস্যা দেখা দিয়েছিল। ডায়ালিসিস করতে হচ্ছিল। তবে মঙ্গলবার রাত থেকে তাঁর অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল। সোমেনবাবুর পরিবার সূত্রের বক্তব্য, বুধবার নার্সিং হোমে তিনি হাঁটাচলা করেছিলেন। পরিজন ও শুভানুধ্যায়ীদের সঙ্গে কথাও বলেছিলেন। কিন্তু বেশি রাতে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন তিনি। রাতেই প্রদেশ কংগ্রেসের তরফে টুইট করে সভাপতির প্রয়াণের কথা জানানো হয়।১৯৪১ সালে জন্মগ্রহণ করেন সোমেন মিত্র৷ তাঁর পুরো নাম সোমেন্দ্রনাথ মিত্র। যদিও রাজনীতিতে তিনি সোমেন মিত্র নামেই পরিচিত৷ দলের কর্মীদের কাছে খুবই প্রিয় নেতা ছিলেন৷ সকলে ছোড়দা বলে ডাকত৷ ১৯৭২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত শিয়ালদহ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জিতেছিলেন। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ছিলেন। ২০০৭-’০৮ সালে কংগ্রেস ছেড়ে প্রথমে প্রগতিশীল ইন্দিরা কংগ্রেস গঠন করেন সোমেনবাবু। তার পরে যোগ দেন তৃণমূলে। ২০০৯ সালে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। সেই বছরই লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকে জেতেন তিনি। ২০১৪ সালে সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে পুরনো দল কংগ্রেসে ফিরে আসেন।প্রয়াত বরকত গনিখান চৌধুরীর শিষ্য বলা হত তাঁকে। ২০১৮ সালে ফের 12ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচিত হন৷সোমেন মিত্রের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ 12 কংগ্রেস থেকে গোটা রাজনৈতিক মহল৷  সোমেনবাবুর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় ছিল লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরীরও। কংগ্রেস সূত্রের খবর, দলে এই দুই নেতার অনুগামীদের মধ্যে দূরত্ব থাকলেও সোমেনবাবুর 1কলকাতাের বিষয়ে যাবতীয় খোঁজখবর এবং পরিবারের সঙ্গে টানা যোগাযোগ রাখতেন অধীর চৌধুরী। সোমেন মিত্রের মৃত্যুতে শোকাহত কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, 'সোমেন মিত্র আর নেই এটা ভাবতে পারছিনা। বাংলার একটা অধ্যায় সমাপ্ত হলো। সংগ্রাম করে, প্রতিকূলতার মোকাবিলা করে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আমার রাজনৈতিক অভিভাবক ছিলেন। আমাকে জনপ্রতিনিধি করার মূল কারিগর সোমেনদা কে হারিয়ে আমি দুঃখে কাতর ও বেদনাহত হলাম।'