একটি হৃদয় নিয়ে জন্মেছিল তারা, বাবা-মায়ের কোল খালি করে চলে গেল দুজনেই

একটি হৃদয় নিয়ে জন্মেছিল তারা, বাবা-মায়ের কোল খালি করে চলে গেল দুজনেই
আজবাংলা           ছোট্ট দুটি প্রাণের জন্ম হয়েছিল গলা জোরাজুরি করে | তাদের আলাদা করার উপায় নেই কারণ তাদের হৃদয়ও যে একটাই | এক চোখ, এক নাক, এক মুখ সব কিছুতেই ছিল মিল | কিন্তু এই মেলবন্ধন একসাথে ২৪ ঘন্টাও পেরোতে পারলো না | তারা তাদের মায়ের গর্ভ থেকেই ভূমিষ্ঠ হয়েছিল একটি হৃদয় নিয়ে | উত্তর ২৪ পরগনার মিলনবাজার কৃষ্ণপুর এলাকায় বাড়ি শিশুটির অভিভাবকদের | কিছুদিন আগে বাচ্চাদুটির মা নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন | ওই প্রসূতিকে লোয়ার ইউটেরাইন সেগমেন্ট সিজারিয়ান সেকশনে ভরতি করানো হয়েছিল | তার অস্ত্রোপচারের দায়িত্বে ছিলেন ডা. বিলকিস, ডা. দেবাশিস, ডা. সোমাশ্রী | এরপরেই দুটি ফুটফুটে সন্তানের জন্ম দেন ওই প্রসূতি | কিন্তু সে জোড়া সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন | নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজের ডা. অসীমকুমার মল্লিক জানিয়েছেন জানিয়েছেন, এই ক্ষেত্রে ভূমিষ্ঠ যমজ ছিল থোরাকো ওমো হ্যালোপেগাস | এই কথার অর্থ হল যকৃৎ একটা থাকলেও পাকস্থলী আলাদা | এই ধরণের শিশুদের শরীরে দেখা যায় একই ক্রোমোজোমের গঠন | চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ভূমিষ্ঠ হওয়া জোড়া শিশু বাঁচতে পারে যদি তাদের আলাদা-আলাদা অঙ্গ থাকে | সেই সময় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সহজে আলাদা করা যায় তাদের দুটি শরীর | কিন্তু এই দুটি শিশু জন্মেছিল একটাই হৃদয় নিয়ে | এই ক্ষেত্রে এই ধরণের শিশুদের বাঁচানো খুবই কঠিন | ২৮ জুলাই নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে উত্তর ২৪ পরগনার ওই প্রসূতি এই রকমই শিশুর জন্ম দিয়েছিলেন | এসব ক্ষেত্রে একটি বাচ্চা মারা গেলে এক মিনিটের মধ্যে অন্য বাচ্চাটিও মারা যায় | শিশুদুটি ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর তারা বেঁচেছিল মাত্র ২৪ ঘণ্টা | ২৯ জুলাই বুধবার দুই শিশুর এক হৃদয়ের স্পন্দন থেমে গিয়েছে | শিশুদুটির হৃদয় থেমে যাওয়াতে সেই ভাবে কষ্ট পাননি তাদের মা-বাবা | তারা জানিয়েছেন ওরা বেঁচে থাকলে আরও কষ্ট পেত | এভাবে একটা হৃদয় নিয়ে কষ্ট পেয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে ওরা মুক্তি পেয়েছে |