শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ অমর সিং

শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ অমর সিং

 আজবাংলা    প্রয়াত রাজ্যসভার সাংসদ তথা সমাজবাদী পার্টির প্রাক্তন নেতা অমর সিং (৬৪)। ২০১৩ সাল থেকে তিনি কিডনির অসুখে ভুগছিলেন। চলতি বছর মার্চ মাসে অস্ত্রোপচার করাতে তিনি সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে যান। তারপর থেকে হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

পরিবার সূত্রে খবর, শুক্রবার সকাল থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে শুরু করে। তারপর তাঁকে আইসিইউ-তে স্থানান্তরিত করা হয়। শনিবার সকালে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।সমাজবাদী পার্টির প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক অমর সিং একসময় দলের প্রতিষ্ঠাতা মুলায়ম সিং যাদবের খুব কাছের মানুষ হিসাবে পরিচিত ছিলেন। তবে, ২০১০ সালে অমর সিং সমস্ত দলের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। পরে তাঁকে দল বহিষ্কারও করে।

তাঁর শিষ্যা বলে পরিচিত জয়াপ্রদাও একই দিনে দল থেকে বহিষ্কৃত হন।উল্লেক্য, এদিন সকালেও টুইটারে সক্রিয় ছিলেন অমর সিং। স্বাধীনতা সংগ্রামী তথা শিক্ষাবিদ বাল গঙ্গাধর তিলকের মৃত্যুবার্ষিকী ছিল আজ। তাঁকে টুইটে শ্রদ্ধাও জানান অমর সিং। পাশাপাশি সকলকে ইদের শুভেচ্ছাও জানান। তবে এই টুইটের কয়েক ঘণ্টা পরই প্রসার ভারতীর তরফে তাঁর মৃত্যুর খবর জানানো হয়। ২০০৮ সালে মার্কিন পরমাণু চুক্তি ঘিরে কেন্দ্রীয় রাজনীতি যখন টালমাটাল, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার থেকে বেরিয়ে যায় বামেরা। সেই সময় সমাজবাদী পার্টির সমর্থনে সরকার টিকে যায়।

অমর সিংহের তৎপরতাতেই সে বার কংগ্রেস-সমাজবাদী পার্টির যোগসূত্র গড়ে উঠিছিল। তার জেরে রাতারাতি জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন অমর। তবে পরবর্তী কালে সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে অমর সিংহের সম্পর্ক তলানিতে এসে ঠেকে। দলবিরোধী কাজের অভিযোগে ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দল থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়।

তাঁর ‘শিষ্যা’ জয়াপ্রদাও একই দিনে দল থেকে বহিষ্কৃত হন। তা সত্ত্বেও মুলায়ম সিংহ যাদবকে নিয়ে কখনও খারাপ মন্তব্য করেননি অমর সিংহ। বরং দল থেকে বার করে দেওয়ার পরও তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘‘ওঁর আশীর্বাদ আমার সঙ্গে রয়েছে। উনি আমাকে সব রকমের স্বাধীনতা দিয়েছিলেন।’’এক সময় বচ্চন পরিবারেরও খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন অমর সিংহ। কিন্তু ২০১৬ সালে সেই সম্পর্কে চিড় ধরে। শোনা যায়, সমাজবাদী পার্টির নেত্রী জয়া বচ্চনের সঙ্গে কিছু বিষয়ে মতবিরোধ হয় তাঁর। জয়ার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ নিয়ে সরব হন তিনি। তাতেই গোটা পরিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কে চিড় ধরে।